Sunday, January 5, 2014

কপি-পেস্ট!


মনে করুন, আপনি আপনার নিজের একটা ইউনিক লাইন ফেসবুকে পোষ্ট করলেন। যেহেতু আপনি এবং আপনার জেনারেশন হুমায়ূন আহমেদের পাড় ভক্ত, লাইনটাতে হুমায়ূনীয় গন্ধ আসাটা স্বাভাবিক। হুমায়ূনীয় গন্ধ আসাটা অন্তত পাপের কিছু না, তাই না?
কেউ একজন লাইনটা কপি করে হুমায়ূন স্যারের নামে পোষ্ট করে দিল। সেখান থেকে আরও ১০জন বন্ধু এবং ১টা অ্যাডমিন তার পেজে হুমায়ূন আহমেদ নামে পোষ্ট দিয়ে দিল।

শত্রু শত্রু খেলা!


আজ ইফতারীর ৩০-৪০ মিনিট আগে আমাদের দরজাতে একজন মা এসেছেন, তাঁর সাদা ড্রেস পরা মেয়েকে খুঁজতে! লাল ড্রেস পরা একটা ছেলে তাঁর মেয়েকে এই বাসার কোনো এক ফ্ল্যাটে নিয়ে এসেছে! তাঁর ছোট ছেলে বোনকে একজনের সাথে এই বাসাতে ঢুকতে দেখেছে। তিনি রিপোর্ট পেয়ে ছুটে এসেছেন। ভদ্র মহিলা মেয়ের খোঁজে এই প্রত্যেকটা ফ্ল্যাটে নক করে চলেছেন। এই বাসাতে চার তলাতে একটা ফ্ল্যাট, পাঁচ তলাতে আমরা একটা ফ্ল্যাট, পাশে আরেকটা ফ্ল্যাট, ছয় তলাতে তিনটা ফ্ল্যাট নিয়ে মোট ছয়টা ফ্ল্যাট ব্যাচেলর থাকে। ছয় তলাতে একটা ফ্ল্যাটে গিয়ে

বিশ্বাস


আমি ক্লাস এইটে থাকতে আমার বাবাকে এলাকার সেচ্ছাসেবক (!) টাইপ একজন এসে বলেছিল, আমি নাকি নিয়মিত সিগারেট খাই! তার কথা শুনে আমার বাবা শুধু বলেছিল, 'আমি নিজে যে জিনিস খাই না, আমার ছেলেও সেই জিনিস খাবে না! এটা মিথ্যা কথা।'
এই কথাটা কোনো ভাবে আমার কানে চলে আসে। কথাটা শোনার পর আমি খুব খুশি

Wednesday, July 31, 2013

অনুগল্পঃ টিনএজ বিড়ম্বনা


আচমকা গালে ঠাশ করে চড় খেয়ে রায়ান চেয়ার থেকে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল! পড়তে বসার পর থেকেই কেমন জানি ঘুম ঘুম লাগছিলো। এক চড়েই ঘুম গায়েব! বাপ মানুষটা না একটা পাষাণ! ঘুমের অপরাধে এই ভাবে কেউ আচমকা চড় মারে? আর শালার প্লাস্টিকের চেয়ার গুলোও যে এমন...! বাপের হাতে মার খেলে সমস্যা নাই কিন্তু চেয়ার থেকে মেঝেতে পড়ে যাওয়াতে ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেল! ছোট বোন মুখ টিপে হাসছে! বাবা মনে হচ্ছে আজকে একটু বেশিই খেপেছে! ঘটনা কী? দাদিও আবার আজকের দিনটাতে বাড়িতে নেই! তিনি থাকলে বাবাকে এক ধমক দিয়ে থামিয়ে দিতেন! আজ সম্ভবত রায়ানের কেয়ামত! সে ইসলাম শিক্ষা বইয়ে কেয়ামত ব্যাপারে পড়েছে। খুব ভয়ংকর ব্যাপার! মিজান সাহেব পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে তার স্ত্রীকে দেখিয়ে বললেন, 

পিশাচের দল


[[লেখাটা সবাইকে মন দিয়ে পড়তে অনুরোধ করছি। আমাদের চারপাশের কিছু সত্যি ঘটনা]]

প্রথম সন্তান ছেলে, দ্বিতীয় সন্তানও ছেলে কিন্তু জন্মের কয়েক মুহূর্ত পর ছেলেটি মারা যাওয়া এক দম্পতির পরবর্তীতে একটা মেয়ের জন্য আর্তনাদ আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি। সন্তান গর্ভে আসার পর থেকেই স্বামী স্ত্রীর মনে একটাই কামনা সুস্থ স্বাভাবিক একটা মেয়ে। দুঃখজনক হলেও সত্যি এখনো আমাদের সমাজে মেয়ে হওয়ার কথা শুনলে অনেকেই খুশি হয়না! কিন্তু এই দম্পতি আলাদা। মেয়ের জন্য তাদের আক্ষেপ অপেক্ষার কারণে তারা অনেকের কাছে ঠাট্টার পাত্র হয়েছেন। তবুও উপরওয়ালার কাছে এবার তাদের চাওয়া মেয়ে! আল্ট্রাসানোগ্রাফি করে ডাক্তার শুধু জানতে চাইলেন, ‘প্রথম সন্তান ছেলে না মেয়ে?’ ছেলে শুনে ভাঙা ভাঙা বাংলাতে ডাক্তার বললেন, “চিন্তা করবেন না, পেটের সন্তান ভাল আছে। বাঁকি গডের ইচ্ছা!” ‘ডাক্তার কেন কিছু বললেন না’ এটা নিয়ে সেই দম্পতির ঘুম হারাম!

ভালোবাসা – ০২


[পড়া শুরু করার আগে দয়াকরে ফুটনোটটা পড়ে নিন।]
যখন খুব ছোট ছিলাম তখন নাকি প্রায়ই জর আসলে চোখ উল্টে যেত। অচেতন হয়ে যেতাম। বাড়ি শুদ্ধ লোকের হুড়মুড় লেগে যেত! রাত যত গভীরই হোক গ্রামের অনেকেই খবর শোনা মাত্র আমাকে দেখতে চলে আসতো। ‘গ্রামের অনেকেই’ বলাটা মনে হয় ঠিক হচ্ছেনা! আমি আসলেই একটা অকৃতজ্ঞ! তাঁরা আমার বাড়ির বা রক্তের সম্পর্কের কেউ না হলেও আমার জন্য যতটুকু ভালোবাসা দেখিয়েছেন আমি সবটুকু বলে শেষ করতে পারব না। তাঁদের অনেক গল্প আম্মুর মুখে শোনা আবার অনেক গল্প শুনেছি ছোটমনির কাছে।

এক 
আমার জন্মের ঠিক দুই দিন আগে পাশের বাড়ির এক চাচীর ছেলে জন্মের সময় মারা যায়।

অনুগল্পঃ 'ড়'

মন খারাপ করে কফি শপ থেকে বেরিয়ে দোকানটার নাম দেখে 'ড়'র মেজাজ আরও খারাপ হয়ে গেল! 'পড়শি কফি শপ’ নামের মধ্যে তার নামটা আছে! তপ্ত রোদে ফুটপথ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে 'ড়' একটু শিস বাজানোর চেষ্টা করল। "বাড়ির পাশে আরশি নগর, সেথা এক পড়শি বসত করে" রোদ গরমের জন্যই কিনা শিসটা ঠিক মত আসলো না। ধ্যাত শালা! 'আরশি'র মত 'পড়শি' বানানটা 'পরশি' হলে ভাল হতো! 

আজ সকাল ১০টাতে 'ড়' আর 'ম'র দেখা হওয়ার কথা ছিল। দুজনের পরিচয় ফেসবুকে। আজ প্রথম দেখা। 

Saturday, July 27, 2013

সৃজনশীল অভিজ্ঞতা!


একটি স্কুলের ক্লাস সেভেনের অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার কৃষি বিজ্ঞানের কিছু খাতা দেখলাম। প্রশ্ন ছিল...
১. খ) নৃ-তাত্ত্বিক পরিবেশ বলতে কি বোঝ?
> এক ছাত্রের উত্তর: "যে পরিবেশে কোন শুখশান্টি নাই সেই পরিবেশ কে নৃ-তাত্ত্বিক পরিবেশ বলে।" 
>আরেক ছাত্রের উত্তর: "আমাদের পারিবারিক অশান্তির কারনে আমরা জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি, একেই নৃ-তাত্ত্বিক পরিবেশ বলে।"

Thursday, July 18, 2013

একজন হুমায়ূন ভক্ত বলছি!


আমার হাতে একটা বই। হুমায়ূন আহমেদের 'তেঁতুল বনে জোছনা'/ মাত্র বইটা পড়ে শেষ করলাম। অদ্ভুত সুন্দর লাগলো! আবার পড়ে ফেললে কেমন হয়? আবার শুরু করলাম। শেষও হয়ে গেল কিন্তু ততক্ষণে ভোর হয়ে গেছে! অসম্ভব ভাল লাগা নিয়ে ঘুমাতে গেলাম। আশ্চর্য জনক ভাবে মতি মিয়াকে স্বপ্ন দেখলাম! আমি আর মতি মিয়া 'ডাহুক' পাখি কুড়াচ্ছি! ঘুম থেকে উঠলাম অন্য রকম ভাল লাগা নিয়ে। পাশে আরেকটা বই ছিল 'এই শুভ্র! এই' ওটাও পড়ে ফেললাম। প্রথম বারের মত সে দিন কলেজ মিস হয়ে গেল! শুভ্রর জন্য মায়া লাগলো কিন্তু মতি মিয়াকে ভুলতে পারলাম না। নবনী, আনিস, শুভ্রকে ছাপিয়ে এক অশিক্ষিত জোকার দার্শনিক (!) আমার মনে দাগ কেটে গেল! আশ্চর্য না?

অনুগল্পঃ অর্থহীন জীবন


নুরু মৃধা বাড়ির উঠান আজ লোকে লোকারণ্য। সবার চোখে তার জন্য করুণা। নুরু মৃধা অনেক শক্ত মনের মানুষ কিন্তু তিনি নিজেকে স্থির রাখতে পারছেন না। উঠানে তার ছোট বেলার বন্ধু রশিদকেও দেখা গেল। রশিদ তার দিকে তাকিয়ে তিরস্কার জড়ানো মৃদু হাসি দিল! তিনি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। নুরু মৃধার চোখের সামনে অতীতের সব স্মৃতি ভেসে উঠছে। বেশি দিন আগের কথা তো না। তখন গ্রামের মধ্যে একটা গুজব উড়ে বেড়াচ্ছিলো। তিনদিন ধরে রশিদের মেয়ে লিপিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! যদিও রশিদের পরিবারের সবাই তখন ব্যাপারটা স্বীকার করেনি। তারা সবাইকে বলছিল লিপি খালার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবাই লিপির খোঁজ করছে। কিন্তু গ্রামের মানুষের বিনোদনের বড়ই অভাব। ব্যাপারটা সবাইকে বিনোদনের খোরাক দিল। সবখানে এই বিষয় নিয়ে মুখরোচক আলোচনা! মানুষের মুখে হাত দিয়ে রাখা মুশকিল। তার উপর রশিদ দক্ষিণ পাড়ার লালনের নামে লিপি অপহরণের মামলা করে দিল! আলোচনার আগুনে ঘি পড়ল! গুজবটা সত্যি প্রমাণ হয়ে গেল। কারণ লিপি নিখোঁজের দিন থেকে লালনও লাপাত্তা! লিপিকে নিয়ে গ্রামে তখন ছিঃ ছিঃ রব। এভেবে বেশ কিছু দিন কেটে গেল। মানুষ গুলো যখন ধীরে ধীরে সব ভুলে যেতে বসেছে ঠিক তখনই সবাইকে অবাক করে লিপি একা একা বাড়ি ফিরে এলো! এরপরের ঘটনা আরও জটিল আর স্পর্শকাতর।